বর্ষার মরশুম ও অ্যাডিনো ভাইরাস:- ডক্টর দেবাঞ্জন গোস্বামী(MBBS,MD)..6289987858

অ্যাডিনোভাইরাস কী?

অ্যাডিনোভাইরাস একটি সাধারণ ভাইরাস যা মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে।এটি শ্বাসতন্ত্র, চোখ, অন্ত্র ও মূত্রনালিতে সংক্রমণ ঘটাতে পারে।

শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও প্রাপ্তবয়স্করাও আক্রান্ত হতে পারেন। সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি ও গলা ব্যথার সঙ্গে সম্পর্কিত।

ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য:-

DNA ভাইরাস এবং ৫০টিরও বেশি প্রকারভেদ রয়েছে । পরিবেশে কিছুটা স্থিতিশীল , সরাসরি সংস্পর্শ ও দূষিত বস্তু থেকে ছড়াতে পারে ।

সংক্রমণের উৎস:-

আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচি , হাতের মাধ্যমে মুখ, নাক বা চোখ স্পর্শ করা , দূষিত জল বা খাবার , তোয়ালে, খেলনা, দরজার হাতল ইত্যাদি ভাগাভাগি

করা , সুইমিং পুলের দূষিত জল ।

কীভাবে ছড়ায়?

ড্রপলেট সংক্রমণ: কাশি ও হাঁচির মাধ্যমে , সংস্পর্শ সংক্রমণ: আক্রান্ত ব্যক্তি বা বস্তু স্পর্শের মাধ্যমে , মল-মুখ পথ: বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে জল সংক্রমণ: দূষিত জলের মাধ্যমে বাহিত সংক্রমণ ।

প্রধান লক্ষণ:-

উচ্চ জ্বর

সর্দি

কাশি

গলা ব্যথা

চোখ লাল হওয়া বা জল পড়া

মাথাব্যথা

শরীর ব্যথা

দুর্বলতা

শিশুদের মধ্যে লক্ষণ

জ্বর ৩–৭ দিন স্থায়ী হতে পারে

খাওয়ার অনীহা

বমি বা ডায়রিয়া

কান ব্যথা

শ্বাসকষ্ট

অতিরিক্ত কান্নাকাটি বা অস্থিরতা

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে লক্ষণ:-

জ্বর ও শরীর ব্যথা

গলা ব্যথা

কাশি

চোখে জ্বালা বা লালভাব

ক্লান্তি

কখনও নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা

অ্যাডিনোভাইরাসের সাধারণ রোগসমূহ:-

ফ্যারিঞ্জাইটিস (গলা সংক্রমণ)

কনজাংকটিভাইটিস (চোখ ওঠা)

ব্রংকাইটিস

নিউমোনিয়া

গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস

সিস্টাইটিস (মূত্রথলির সংক্রমণ)

জ্বরের বৈশিষ্ট্য:-

হঠাৎ জ্বর শুরু হয়

তাপমাত্রা ১০১–১০৪°F পর্যন্ত হতে পারে

জ্বর কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে

জ্বরের সঙ্গে সর্দি, কাশি ও চোখের সমস্যা থাকতে পারে

রোগ নির্ণয়:-

রোগীর ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা

রক্ত পরীক্ষা

নাক বা গলার নমুনা পরীক্ষা (PCR)

চোখের সংক্রমণের ক্ষেত্রে বিশেষ পরীক্ষা

নিউমোনিয়ার সন্দেহে বুকের এক্স-রে

চিকিৎসা:-

পর্যাপ্ত বিশ্রাম

প্রচুর জল পান

জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল (ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী)

সর্দি-কাশির উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা

চোখের সংক্রমণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।

কী করা উচিত??

অপ্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন নয়

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েড ব্যবহার নয়

আক্রান্ত অবস্থায় অন্যদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন

ব্যবহৃত তোয়ালে বা বাসন ভাগাভাগি করবেন না

প্রতিরোধ:-

নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া

কাশি বা হাঁচির সময় মুখ ঢেকে রাখা

অসুস্থ ব্যক্তির কাছ থেকে দূরে থাকা

ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ভাগাভাগি না করা

পরিষ্কার জল ব্যবহার করা

কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাবেন?

শ্বাসকষ্ট হলে

জ্বর ৫ দিনের বেশি স্থায়ী হলে

শিশু খেতে না চাইলে

ঠোঁট বা মুখ নীলচে হলে

অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অজ্ঞান হওয়ার প্রবণতা থাকলে

বুকে ব্যথা হলে

ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি:-

ছোট শিশু

বয়স্ক ব্যক্তি

গর্ভবতী নারী

হৃদরোগ বা ফুসফুসের রোগী

ডায়াবেটিস রোগী

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তি

জটিলতা:-

নিউমোনিয়া

ব্রংকাইটিস

কান সংক্রমণ

ডিহাইড্রেশন

চোখের গুরুতর সংক্রমণ

বিরল ক্ষেত্রে হৃদপেশিরপ্রদাহ

অ্যাডিনোভাইরাস বনাম সাধারণ সর্দি:-

বৈশিষ্ট্য অ্যাডিনোভাইরাস সাধারণ সর্দি

জ্বর উচ্চ হতে পারে কম বা নেই

চোখ লাল সাধারণ কম

গলা ব্যথা প্রচণ্ড হতে পারে মৃদু

স্থায়িত্ব ৩–৭ দিন ২–৫ দিন

সারাংশ

অ্যাডিনোভাইরাস একটি সাধারণ ভাইরাসজনিত সংক্রমণ।

জ্বর, সর্দি, কাশি ও চোখ লাল হওয়া প্রধান লক্ষণ।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিশ্রাম ও তরল গ্রহণেই রোগ সেরে যায়।

অ্যান্টিবায়োটিক সাধারণত প্রয়োজন হয় না।

শ্বাসকষ্ট বা দীর্ঘস্থায়ী জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে

খবরটি শেয়ার করুন