সুমন গাঙ্গুলি | পোদড়া, সাঁকরাইল , ১৪ অগাস্ট ২০২৬ –
পোদড়া বিবেকানন্দ নগর কলোনীর প্রধান রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে থাকায় বর্তমানে সেটি কার্যত ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে বহু মানুষ যাতায়াত করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী এবং বয়স্কদেরও এই রাস্তার উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু রাস্তার বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক যাতায়াত কার্যত দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় তৈরি হয়েছে গর্ত ও ভাঙাচোরা অংশ। বৃষ্টির সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। গর্তে জল জমে গেলে কোথায় রাস্তা ভাঙা এবং কোথায় সমতল—তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ছোটখাটো দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে।
‘প্রশাসনের উদাসীনতা’ নিয়ে প্রশ্ন
রাস্তার এই পরিস্থিতি নিয়ে সরব হয়েছেন এলাকার বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. কমল গুছাইত। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে প্রশাসনিক উদাসীনতার প্রসঙ্গ। তাঁর অভিযোগ, একটি জনবহুল এলাকার গুরুত্বপূর্ণ প্রধান রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে এমন অবস্থায় পড়ে থাকলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
ডা. গুছাইতের বক্তব্য অনুযায়ী, রাস্তা শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়—এর সঙ্গে এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবন, চিকিৎসা পরিষেবা, শিক্ষা, ব্যবসা এবং জরুরি পরিষেবার বিষয়টিও সরাসরি জড়িয়ে রয়েছে। ফলে রাস্তার বেহাল দশা কোনওভাবেই ছোটখাটো সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করছেন এবং তাঁদের দুর্ভোগ চোখের সামনে থাকলেও যদি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।
স্থানীয়দের ক্ষোভ
বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, রাস্তার সমস্যা নতুন নয়। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও স্থায়ীভাবে রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ দেখা যায়নি। কোথাও সাময়িকভাবে মেরামতি করা হলেও কিছুদিনের মধ্যেই ফের সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে তাঁদের দাবি।
স্থানীয়দের বক্তব্য, বর্ষার সময় সমস্যাটি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। রাস্তার গর্তে জল জমে থাকায় পথচারী এবং বাইকচালকদের জন্য বিশেষ ঝুঁকি তৈরি হয়। রাতের দিকে পর্যাপ্ত আলো না থাকলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।
দ্রুত সংস্কারের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দা ও ডা. কমল গুছাইতের বক্তব্যে একই দাবি সামনে এসেছে—পোদড়া বিবেকানন্দ নগর কলোনীর প্রধান রাস্তার পরিস্থিতি দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্থায়ী সংস্কারের ব্যবস্থা করতে হবে।
শুধু গর্তে সাময়িকভাবে মাটি বা ইট ফেলে সমস্যা ঢাকার পরিবর্তে রাস্তার পূর্ণাঙ্গ সংস্কার প্রয়োজন বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে রাস্তার জলনিকাশি ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে, যাতে বর্ষার জল দীর্ঘ সময় রাস্তায় জমে না থাকে।
এখন দেখার বিষয়, স্থানীয় মানুষের এই দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।
একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—জনসাধারণের প্রতিদিনের চলাচলের সঙ্গে যুক্ত এই প্রধান রাস্তা যদি ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে, তাহলে স্থায়ী সংস্কারের জন্য প্রশাসনের আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে?
