নিউজ ডেস্ক, কলকাতা, ৭ সেপ্টেম্বর: ফের বৃষ্টির দাপট বাড়ার আশঙ্কা বাংলায়। আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার থেকে আগামী কয়েক দিন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টি, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আকাশের মুখ ভার। কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি শুরু হয়েছে, আবার কোথাও কালো মেঘের সঙ্গে বজ্রপাতের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন ও আবহাওয়া দফতর।
ভারতীয় আবহাওয়া দফতরের কলকাতা কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের একাধিক এলাকায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝোড়ো হাওয়াও হতে পারে। ৯ সেপ্টেম্বরও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে বৃষ্টির এই প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। ফলে আগামী কয়েক দিন রাজ্যের আবহাওয়ার দিকে বিশেষ নজর রাখার প্রয়োজন রয়েছে।
কলকাতাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা
রাজ্যের পাশাপাশি কলকাতাতেও আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে। শহরের আকাশ মূলত মেঘলা থাকবে এবং বিভিন্ন সময়ে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়ের সময় ঘণ্টায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। এর ফলে রাস্তার ধারে থাকা গাছের ডাল ভেঙে পড়া, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যা এবং যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে।
শহর ও শহরতলির নিচু এলাকাগুলিতে ভারী বৃষ্টির জেরে জল জমার সমস্যাও দেখা দিতে পারে। ইতিমধ্যেই যেসব এলাকায় জল জমার প্রবণতা রয়েছে, সেখানে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে স্থানীয় প্রশাসন। বৃষ্টির সময়ে অপ্রয়োজনে রাস্তায় বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় নজর
দক্ষিণবঙ্গের কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, বীরভূম, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমান-সহ বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে, আবার কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে নিচু এলাকা, নদী ও জলাশয় সংলগ্ন অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির ফলে স্থানীয়ভাবে জলস্তর বাড়তে পারে। পাশাপাশি প্রবল বৃষ্টিতে রাস্তাঘাটে জল জমে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
উত্তরবঙ্গেও বাড়ছে উদ্বেগ
উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতিও নজরে রয়েছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার-সহ পাহাড় ও পার্বত্য সংলগ্ন এলাকাগুলিতে ভারী বৃষ্টির জেরে ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে ছোট নদী ও পাহাড়ি ঝোরার জলস্তর দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
এর আগে লাগাতার বৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছিল। ফলে নতুন করে ভারী বৃষ্টি শুরু হলে পাহাড়ি রাস্তায় যান চলাচল এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলিতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। প্রশাসনের তরফে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
মৎস্যজীবীদের সতর্কতা
সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাতেও সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সমুদ্র উত্তাল হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বজ্রপাতের সময় কী করবেন?
বজ্রপাতের সময় সাধারণ মানুষকে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খোলা মাঠ বা ফাঁকা জায়গায় না থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা উচিত। গাছের নিচে দাঁড়ানো বা বিদ্যুতের খুঁটি, তার ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক পরিকাঠামোর কাছাকাছি থাকা এড়িয়ে চলতে হবে। প্রবল বজ্রপাতের সময় অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়াই নিরাপদ।
জল জমা রাস্তায় বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে থাকতে পারে। তাই এমন রাস্তায় চলাচলের সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কোনও বৈদ্যুতিক তার বা খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখা গেলে তার কাছাকাছি না গিয়ে দ্রুত প্রশাসন বা বিদ্যুৎ দফতরকে জানানো উচিত।
সব মিলিয়ে আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা বাংলার আবহাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভারী বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়ার সম্ভাবনার কারণে সাধারণ মানুষকে আবহাওয়া দফতরের নিয়মিত আপডেট অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলাই এই সময়ে সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
