নিজস্ব সংবাদদাতা, বালি, ১৮ আগস্ট ২০২৬ –
উদ্যমিনী’র ‘ভারতীয় বাঘিনী’দের নজরকাড়া মার্শাল আর্ট ও আত্মরক্ষা প্রদর্শন
দেশাত্মবোধ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং নারী আত্মরক্ষার বার্তাকে সামনে রেখে বালি ঘোষপাড়ায় সাড়ম্বরে পালিত হলো ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। গত ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সকাল থেকেই জাতীয় পতাকা, দেশাত্মবোধক আবহ এবং নানা কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়।


অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সুব্রত কুমার মাইতি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিশ্চিন্দা থানার এসআই অর্ক দে। এছাড়াও উত্তরায়ণ সোসাইটির সক্রিয় সদস্য বিশ্বনাথ মগর, অরিন্দম সিংহ ও বিশ্বজিৎ দাস-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। এলাকার একাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানটি বিশেষ মাত্রা পায়।
তবে এদিনের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে সামাজিক সংস্থা ‘উদ্যমিনী’-র খুদে সদস্য ও বালিকাদের বিশেষ মার্শাল আর্ট এবং আত্মরক্ষা প্রদর্শন। মঞ্চে ‘ভারতীয় বাঘিনী’ রূপে আত্মপ্রকাশ করে ছোট ছোট মেয়েরা একের পর এক আত্মরক্ষামূলক কৌশল, মার্শাল আর্টের বিভিন্ন মুভ এবং শারীরিক দক্ষতার নজরকাড়া প্রদর্শন করে।
খুদে অংশগ্রহণকারীদের দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা, সাহস এবং আত্মবিশ্বাসে মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শকরা। তাঁদের পরিবেশনা শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হিসেবেই নয়, বরং নারী ও কন্যাশিশুদের আত্মরক্ষার গুরুত্বের একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবেও সামনে আসে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বহু মানুষ জানান, বর্তমান সময়ে মেয়েদের ছোটবেলা থেকেই আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে মার্শাল আর্টের মতো প্রশিক্ষণ শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস, মানসিক দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা ও বিপদের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, স্বাধীনতা দিবসের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অনুষ্ঠানের মঞ্চে মেয়েদের আত্মরক্ষার এমন প্রদর্শন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন দেশের প্রতি শ্রদ্ধা ও দেশাত্মবোধের বার্তা পৌঁছেছে, অন্যদিকে সমাজে নারী সুরক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
‘উদ্যমিনী’র এই উদ্যোগের প্রশংসা করে উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা বলেন, ঘরের মেয়েদের শুধুমাত্র শিক্ষিত করাই নয়, তাঁদের আত্মনির্ভর, সাহসী এবং আত্মবিশ্বাসী করে তোলাও সমাজের দায়িত্ব। আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ সেই লক্ষ্য পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
অনুষ্ঠান ঘিরে এলাকার মানুষের উৎসাহ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণও ছিল চোখে পড়ার মতো। খুদে ‘ভারতীয় বাঘিনী’দের পরিবেশনা শেষ হওয়ার পর দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
সব মিলিয়ে বালি ঘোষপাড়ার স্বাধীনতা দিবস উদযাপন শুধুমাত্র জাতীয় পতাকা উত্তোলন বা দেশাত্মবোধের আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। ‘উদ্যমিনী’র উদ্যোগে মেয়েদের মার্শাল আর্ট ও আত্মরক্ষা প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়েছে নারী নিরাপত্তা, আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক সচেতনতার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।
নারী সুরক্ষা ও কন্যাশিশুদের আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে ‘উদ্যমিনী’র এই উদ্যোগ বালি অঞ্চলে ইতিবাচক বার্তা ছড়ানোর পাশাপাশি আগামী প্রজন্মের মেয়েদের আরও সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে মনে করছেন স্থানীয়রা।
