কাঠমান্ডু, ৩ সেপ্টেম্বর: নেপালের ভোতে কোশি নদীতে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার আট দিন পরও নিখোঁজদের সন্ধানে জোরকদমে উদ্ধার অভিযান চলছে। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৩ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ সরকারি ব্রিফিং অনুযায়ী, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে এখনও পর্যন্ত ১,২৫২টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রায় ৪,২০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এ পর্যন্ত ১১,৯৯৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩০০-র বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।
সরকারি হিসাবে, ৩৪টি দেশের প্রায় ৫৯০ জন বিদেশি নাগরিক এখনও নিখোঁজ। উদ্ধার ও নিখোঁজের সংখ্যা যাচাইয়ের কাজ চলায় এই পরিসংখ্যান পরিবর্তিত হতে পারে বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার।
২৬ আগস্ট রাসুয়া এলাকায় ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার পর নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বহু পর্যটক ও বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।
উদ্ধার অভিযানে নেপালি সেনার সঙ্গে ভারত, চিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। নেপাল সরকারের হিসাবে বর্তমানে ৯,৩০০-এর বেশি নেপালি সেনা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিতে তল্লাশি, উদ্ধার, মৃতদেহ ব্যবস্থাপনা, রাস্তা পরিষ্কার ও জরুরি চিকিৎসা সহায়তায় নিয়োজিত।
বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে। চিলিমে, লাংটাং, আপার ত্রিশূলি-১, ৩এ ও ৩বি এবং অন্যান্য এলাকায় বিশেষজ্ঞ দল টানেল খুলে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। আপার ত্রিশূলি ৩এ-তে ৯৩ সদস্যের উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।
নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ভারত, চিন, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা নেপালি দলের সঙ্গে কাজ করছেন। মৃতদেহ শনাক্তকরণের জন্য ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও বিশ্লেষণও চলছে।
নেপাল সরকার জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান এখনও সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন এবং পরবর্তী পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের প্রস্তুতিও চলছে।
সূত্র: নেপাল সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর ষষ্ঠ সরকারি প্রেস ব্রিফিং।
ছবি – সংগৃহীত
