নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, ২ সেপ্টেম্বর : কলকাতা পুরসভার আসন্ন নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তৎপরতা ক্রমেই বাড়ছে। পুজোর মরশুম মিটলেই নভেম্বর মাসে কলকাতা পুরসভার ভোট হতে পারে—এমনই জল্পনা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পুরভোটকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শুরু করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়িয়ে ২০১ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা বেড়ে ২০১ হতে চলেছে। পুরসভা নির্বাচন নিয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা ইতিমধ্যেই হয়েছে বলেও জানান তিনি।শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, ২০১টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে আরও কয়েকটি বৈঠক হবে এবং সেই বৈঠকের পর প্রার্থী নির্বাচন ও অন্যান্য সাংগঠনিক বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুরভোটকে সামনে রেখে দলের সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার প্রস্তুতিও চলছে বলে রাজনৈতিক সূত্রের খবর।তবে নির্বাচনের আগে ‘ঘাসফুল’ প্রতীক কার দখলে থাকবে, তা নিয়েও রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কলকাতা পুরভোটে ঘাসফুল প্রতীক নিয়ে তাঁরাই লড়াই করবেন। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসও নিজেদের দল ও প্রতীক নিয়ে আত্মবিশ্বাসী।মমতাপন্থী তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেটাই আসল তৃণমূল।” ফলে কলকাতা পুরভোটের আগে প্রতীক ও দলীয় পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।২০১টি ওয়ার্ডে নির্বাচন হলে তা কলকাতার পুররাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই প্রার্থী বাছাই, সংগঠন মজবুত করা এবং প্রচারের কৌশল নির্ধারণে রাজনৈতিক দলগুলির তৎপরতা বাড়ছে।
