নিউজ ডেস্ক, পূর্ব রেলওয়ে, কলকাতা, ২১ আগস্ট –
রেল প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখলেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পান্ডে। যাত্রী নিরাপত্তা, পরিষেবা ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে তারকেশ্বর এবং গোঘাট–কামারপুকুর–জয়রামবাটি রেলপথ পরিদর্শন করলেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার শ্রীমতী গীতিকা পান্ডে। শুক্রবারের এই পরিদর্শনে তাঁর সঙ্গে ছিলেন হাওড়া ডিভিশনের ডিআরএম শ্রী বিশাল কাপুর-সহ পূর্ব রেলের সদর দপ্তর ও ডিভিশনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। পরিদর্শনের শুরুতে তারকেশ্বর স্টেশনে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের আওতায় চলা পুনর্নির্মাণ ও আধুনিকীকরণের কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন জেনারেল ম্যানেজার। স্টেশনে যাত্রী পরিষেবা এবং পরিকাঠামোর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আধিকারিকদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন তিনি। সামনেই শ্রাবণী মেলা। সেই কারণে তারকেশ্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থানে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থী ও যাত্রীর সমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ও পরিষেবা ব্যবস্থা বিশেষভাবে পর্যালোচনা করেন তিনি। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্ল্যাটফর্মের পর্যাপ্ত আলো, ২৪ ঘণ্টা পানীয় জলের ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। শুধু আধিকারিকদের কাছ থেকে রিপোর্ট নিয়েই থেমে থাকেননি জেনারেল ম্যানেজার। প্ল্যাটফর্মে নেমে সরাসরি যাত্রী ও তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা, স্টেশনের পরিচ্ছন্নতা এবং টিকিটিং পরিষেবা নিয়ে যাত্রীদের অভিজ্ঞতা ও মতামত শোনেন। যাত্রীদের সরাসরি অভিজ্ঞতা থেকে পরিষেবার বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন তিনি। এরপর গোঘাট–কামারপুকুর–জয়রামবাটি রেলপথ ধরে এগিয়ে নতুন রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার। প্রকল্পের বিভিন্ন অংশের বর্তমান পরিস্থিতি, নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলি নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। পরিদর্শনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল ভাবাদিঘি। সেখানে প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখেন গীতিকা পান্ডে। স্থানীয় মানুষের দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের একাধিক নির্দেশ দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য পৃথক রাস্তা তৈরির বিষয়টি দ্রুত বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকেও নজর দেওয়া হয়। স্কুলে বিদ্যুৎ, পর্যাপ্ত আলো, পাখা এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের মতো মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেন জেনারেল ম্যানেজার। পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, রেল পরিকাঠামোর উন্নয়নের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের স্বার্থ ও দৈনন্দিন সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। নতুন রেললাইন নির্মাণের মতো বৃহৎ প্রকল্পের সঙ্গে স্থানীয় জনজীবনের স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় রাখার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শ্রী শিবরাম মাঝি বলেন, “যাত্রীদের নিরাপত্তা, সুবিধা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের কল্যাণকে আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণে পূর্ব রেলওয়ে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” পূর্ব রেলের এই পরিদর্শনে একদিকে যেমন তারকেশ্বর স্টেশনের আধুনিকীকরণ ও শ্রাবণী মেলা উপলক্ষে যাত্রী পরিষেবার প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়েছে, অন্যদিকে গোঘাট–কামারপুকুর–জয়রামবাটি নতুন রেলপথ প্রকল্পের অগ্রগতির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের দাবি ও বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোগত প্রয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
