নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা, ৬ সেপ্টেম্বর: ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বাইরে বিলবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করে অশান্তির ঘটনায় প্রাক্তন আইপিএস তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে তলব করল কলকাতা পুলিশ। রবিবার সকালে শেক্সপিয়র সরণি থানার একটি দল কসবায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে নোটিস দেয়। এই নিয়ে তাঁকে নোটিস দেওয়ার তৃতীয় চেষ্টা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় শেক্সপিয়র সরণি থানায় তদন্তকারী আধিকারিকদের সামনে হাজির হয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিতে বলা হয়েছে। যদিও হুমায়ুন কবীর জানিয়েছেন, তিনি নির্ধারিত দিনের আগেই থানায় হাজির হতে চান। তাঁর তরফে সোমবারই থানায় যাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ আগস্ট। ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের বাইরে থাকা তৃণমূলের প্রতীক-সম্বলিত একটি বিলবোর্ড সরাতে কলকাতা পুরসভার কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে সেখানে যান। বিলবোর্ডটি বেআইনি ভাবে লাগানো হয়েছিল বলে পুরসভার দাবি। সেটি সরানোকে কেন্দ্র করে পুলিশ, পুরকর্মী ও অফিসের নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির অভিযোগ ওঠে। পুলিশের দাবি, সরকারি কাজে বাধা, হামলা এবং মহিলা পুলিশকর্মীদের হেনস্থার অভিযোগও রয়েছে।
এই ঘটনায় একাধিক এফআইআর দায়ের হয়েছে। মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং হুমায়ুন কবীর-সহ বেশ কয়েকজনের নাম রয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে অভিষেক, ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী সুমিত রায়কেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, বিলবোর্ড সরানোর আগে নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় নোটিস দেওয়া হয়নি এবং ঘটনাস্থলে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তাঁর প্রশ্ন রয়েছে। ফলে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ ঘিরে ক্যামাক স্ট্রিট মামলা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
