নিউজ ডেস্ক, কলকাতা, ৭ সেপ্টেম্বর: আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সোমবার সকাল থেকেই কলকাতা, দিল্লি এবং ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে সাংসদের সঙ্গে যুক্ত একাধিক জায়গায় একযোগে অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন নথি, আর্থিক লেনদেনের তথ্য এবং ডিজিটাল উপাদান খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
ED সূত্রে খবর, কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকায় নাদিমুল হকের সঙ্গে যুক্ত উর্দু সংবাদপত্র ‘আখবার-এ-মাশরিক’-এর অফিসেও তল্লাশি চালানো হয়। এর পাশাপাশি কলকাতায় সাংসদের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি ঠিকানাতেও তদন্তকারীরা পৌঁছন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যুক্ত কিছু জায়গাও অভিযানের আওতায় রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
শুধু কলকাতা নয়, দিল্লিতেও ED-র অভিযান চলে। সাউথ অ্যাভিনিউয়ের একটি ঠিকানায় তদন্তকারীরা যান। ওই ঠিকানাটি তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। একইসঙ্গে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতেও সাংসদের সঙ্গে যুক্ত একটি ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়। একাধিক রাজ্যে একই সময়ে অভিযান চালানোর ঘটনায় তদন্তের পরিধি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কী অভিযোগের তদন্ত?
তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, সংবাদপত্র সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকতে পারে। সেই লেনদেনের প্রকৃতি, অর্থের উৎস এবং কোথায় সেই অর্থ স্থানান্তরিত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে ED। অভিযোগগুলি এখনও তদন্তাধীন এবং কোনও অভিযোগই আদালতে প্রমাণিত হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না।
জানা গিয়েছে, গত অগস্টে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের অধীন একটি থানায় দায়ের হওয়া FIR-এর ভিত্তিতে ED একটি Enforcement Case Information Report (ECIR) নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু করে। সেই তদন্তেরই পরবর্তী পর্যায়ে সোমবার একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
নথি ও ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখা
তল্লাশির সময় তদন্তকারীরা বিভিন্ন আর্থিক নথি, ব্যাঙ্ক লেনদেনের বিবরণ, হিসাব সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং ডিজিটাল তথ্য খতিয়ে দেখছেন। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও ব্যক্তিদের মধ্যে আর্থিক লেনদেনের ধারাবাহিকতা এবং অর্থের গতিপথ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীরা কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি বা ইলেকট্রনিক তথ্য পান কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে। তল্লাশি শেষে কী কী নথি বা তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
রাঁচিতে নাদিমুল হকের অবস্থান নিয়ে চর্চা
এদিকে, অভিযান চলাকালীন নাদিমুল হকের অবস্থান নিয়েও বিভিন্ন খবর সামনে এসেছে। একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাঁচিতে তাঁর সন্ধান পাওয়ার পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তাঁর অবস্থান এবং জিজ্ঞাসাবাদ সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার তরফে বিস্তারিত কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি।
নাদিমুল হক বা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এই তল্লাশি নিয়ে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে রাজনৈতিক মহলে এখন মূল প্রশ্ন, তদন্তে ED কী ধরনের তথ্য বা নথি পায় এবং এরপর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা কী পদক্ষেপ করে।
নজরে পরবর্তী পদক্ষেপ
একাধিক রাজ্যে চালানো এই তল্লাশির পর তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের। আর্থিক লেনদেনের অভিযোগের সূত্র ধরে তদন্তকারী সংস্থা আরও কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কি না, নতুন কোনও নথি বা তথ্য সামনে আসে কি না, কিংবা পরবর্তী সময়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয় কি না—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। তাই ED-র তল্লাশি মানেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই অভিযোগের প্রকৃতি ও তার সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ছবি পাওয়া সম্ভব হবে। আপাতত কলকাতা, দিল্লি ও রাঁচিতে চালানো অভিযানের পরবর্তী গতিপ্রকৃতির দিকেই নজর রয়েছে।
