গৌতম পাত্র, হাওড়া, ৩০ আগস্ট –
শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার এক অনন্য মিলনক্ষেত্র হিসেবে গড়ে ওঠা পোদড়ার কলাকুঞ্জ নিকেতন-এর প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬ সন্ধ্যায় এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আন্দুল রোড সংলগ্ন কলাকুঞ্জ নিকেতন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে শিল্পী, সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ, শুভানুধ্যায়ী এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
প্রতিষ্ঠার এক বছর পূর্তিকে কেন্দ্র করে সাজিয়ে তোলা হয় সমগ্র অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। নৃত্য, সংগীত ও বিভিন্ন মনোজ্ঞ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় কলাকুঞ্জ নিকেতনের প্রথম বর্ষপূর্তি। বিভিন্ন বয়সের শিল্পীদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে। সাংস্কৃতিক পরিবেশনাগুলিতে ভারতীয় ঐতিহ্য, শিল্প-সংস্কৃতির বহুমাত্রিক রূপ এবং নতুন প্রজন্মের সৃজনশীলতার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও শুভানুধ্যায়ীরা কলাকুঞ্জ নিকেতনের এক বছরের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। প্রতিষ্ঠানের পথচলার শুরু থেকে যাঁরা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন, তাঁদের প্রতি এদিন আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। উপস্থিত সকলে আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে এই প্রতিষ্ঠান এলাকার শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চার ক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করবে।
কলাকুঞ্জ নিকেতনের কর্ণধার দেবযানী মান্না বলেন, মাত্র এক বছরের পথচলায় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা ও সহযোগিতা পাওয়া গিয়েছে, তা আগামী দিনের কাজের ক্ষেত্রে আরও বেশি উৎসাহ ও প্রেরণা জোগাচ্ছে। তিনি বলেন, শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চার জন্য একটি সুস্থ ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সেই লক্ষ্য নিয়েই কলাকুঞ্জ নিকেতনের পথচলা শুরু হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের শিল্পী ও প্রতিভাবান ছেলেমেয়েদের জন্য একটি উপযুক্ত মঞ্চ গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। শুধুমাত্র অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্যে নিজেদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ না রেখে নৃত্য, সংগীত, শিল্পচর্চা এবং বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সংস্কৃতির বার্তা পৌঁছে দিতে চায় কলাকুঞ্জ নিকেতন।
দেবযানী মান্নার কথায়, বর্তমান প্রজন্মকে ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করা প্রয়োজন। শিশু ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার আগ্রহ তৈরি করতে পারলেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। সেই উদ্দেশ্যেই ভবিষ্যতে আরও নানা ধরনের সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানের।
প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। নৃত্য ও সংগীতের সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ। একদিকে যেমন ছিল প্রতিষ্ঠানের এক বছরের সাফল্যের আনন্দ, তেমনই ছিল আগামী দিনের আরও বৃহত্তর পরিকল্পনা ও স্বপ্নের কথা।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার দেবযানী মান্না উপস্থিত সকল অতিথি, শিল্পী, শুভানুধ্যায়ী এবং সহযোগীদের ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সকলের সহযোগিতা ও ভালোবাসা নিয়ে আগামী দিনেও কলাকুঞ্জ নিকেতন শিল্প, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে আরও সুদৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবে।
মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, শিল্পচর্চার বার্তা এবং আনন্দঘন আবহে পোদড়ার কলাকুঞ্জ নিকেতনের প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন স্মরণীয় হয়ে থাকল উপস্থিত সকলের কাছে।
