নিউজ ডেস্ক, পূর্ব রেলওয়ে হাওড়া, ১৯ আগস্ট ২০২৬-

বর্ষার ভারী বৃষ্টিতে হাওড়া স্টেশন ও সংলগ্ন এলাকায় জল জমার সমস্যা মোকাবিলায় নিকাশি পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হল। রেল ও হাওড়া পুরনিগমের যৌথ উদ্যোগ, পাম্পিং ক্ষমতা বৃদ্ধি ও নিকাশি ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে জোর দিয়ে হাওড়া ডিভিশন, পূর্ব রেল এবং হাওড়া পুরনিগমের (HMC) মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সমন্বয় বৈঠকে জলনিকাশি ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন, পাম্পিং ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত বৃষ্টির জল দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হাওড়া ডিভিশন, পূর্ব রেলের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (DRM) বিশাল কাপুর, হাওড়া পুরনিগমের কমিশনার তেজস্বী রানা, Sr. DEN/HQ & Line/HWH-এর শৈলেশ, HMC-র পরামর্শদাতা অজয় সিংহ-সহ হাওড়া ডিভিশনের শাখা আধিকারিক, হাওড়া পুরনিগমের পদস্থ আধিকারিক, রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আধিকারিকরা। বৈঠকে রেল এলাকার মধ্যে পার্শ্ববর্তী পুর এলাকার জল ঢুকে পড়া, বিভিন্ন LHS এলাকায় জল জমে থাকা এবং নিকাশি ব্যবস্থার একাধিক বাধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত হয়েছে, রেল ও রাজ্য/হাওড়া পুরনিগমের আধিকারিকরা যৌথভাবে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করবেন। কোথা থেকে জল আসছে, কোন পথে জল প্রবাহিত হচ্ছে এবং কোথায় নিকাশি ব্যবস্থায় বাধা তৈরি হচ্ছে—তা চিহ্নিত করা হবে।
পুরো নিকাশি ব্যবস্থাকে পদ্ধতিগতভাবে চিহ্নিত করে শেষ পর্যন্ত হুগলি নদীর দিকে থাকা জল নিষ্কাশনের মুখ (outfall) পর্যন্ত জলপ্রবাহের পথ পরীক্ষা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে নিকাশি ব্যবস্থার কোথায় সমস্যা রয়েছে তা নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে রেল ও পুর কর্তৃপক্ষ। হাওড়ার গুরুত্বপূর্ণ পাম্পিং স্টেশনগুলির কার্যক্ষমতা ও বর্তমান পাম্পিং ক্ষমতাও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে মাইনাকপাড়া ও গোলাবাড়ি এলাকার পাম্পিং ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত পাম্পিং ক্ষমতা তৈরি করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। ভারী বৃষ্টির সময় দ্রুত জল সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে পাম্পিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। হাওড়া ডিভিশন ইতিমধ্যেই একটি অনলাইন স্বয়ংক্রিয় পাম্পিং মনিটরিং সিস্টেম চালু করেছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে পাম্পগুলি চালু রয়েছে কি না এবং বিভিন্ন স্থানে জলের স্তর কতটা রয়েছে, তা পর্যবেক্ষণ করা যায়, ফলে ভারী বৃষ্টির সময় পাম্পিং ব্যবস্থায় কোনও সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। রেল ও পুর কর্তৃপক্ষের মধ্যে প্রযুক্তিগত তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। এছাড়াও হাওড়ার রানি ঝিল, বামনগাছি ও লিলুয়া এলাকার নিকাশি ব্যবস্থাও বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়েছে। জল দ্রুত বের করে দেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো, অতিরিক্ত জল ধরে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় buffer capacity বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক নিকাশি নেটওয়ার্ককে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেওয়া হয়। এছাড়াও কোনা মোড়ের দিকে নিকাশি সংযোগ শক্তিশালী করে হুগলি নদীর দিকে উপযুক্ত outfall তৈরি করার একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই কাজে হাওড়া পুরনিগম, KMDA এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
অতিরিক্ত বৃষ্টির সময় সাময়িকভাবে জল ধরে রাখার জন্য উপযুক্ত পুকুর ও ঝিলকে ব্যবহার করা যায় কি না, সেই সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি নিকাশি ব্যবস্থার outfall ও জল নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলিতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানোর বিষয়টিও বৈঠকে বিবেচনা করা হয়েছে। বৈঠকে নিকাশি নালা পরিষ্কার রাখা, নালায় আবর্জনা জমে জল চলাচলে বাধা সৃষ্টি রোধ করা এবং বিশেষ করে Car Shed এলাকা থেকে জমে থাকা বর্জ্য সরানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
এছাড়াও বালি, ডবসন রোড, চার্চ রোড, দাশরথ ঘোষ লেন, চাঁদমারি ব্রিজ ও টিকিয়াপাড়া-সহ বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় নিকাশি সমস্যাগুলি পর্যালোচনা করা হয়েছে।
রেল ও নাগরিক প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, শুধু বর্ষার সময় জল সরানোর পরিবর্তে হাওড়ার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও প্রযুক্তিনির্ভর নিকাশি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
রেল ও হাওড়া পুরনিগমের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে নিকাশি লাইনগুলি ধাপে ধাপে পর্যালোচনা ও সংস্কার করা, পাম্পিং ও জল নিষ্কাশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং ভারী বৃষ্টির সময় জল জমার সমস্যা কমানোর লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। হাওড়া স্টেশন ও সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় বর্ষার জলাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। ফলে এই যৌথ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যাত্রী, রেলকর্মী এবং হাওড়ার সাধারণ বাসিন্দাদের জন্য জল জমার সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খবরটি শেয়ার করুন