আন্তর্জাতিক ডেস্ক, খবর সাঁকরাইল | ১ অগাস্ট:
কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতায় শুক্রবার ছিল গতি, শক্তি এবং দক্ষতার এক অনবদ্য প্রদর্শনী। ট্র্যাক ও ফিল্ডের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফাইনাল ঘিরে সকাল থেকেই দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। স্কটস্টাউন স্টেডিয়ামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেরা অ্যাথলিটরা নিজেদের সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স তুলে ধরতে মরিয়া ছিলেন। প্রতিটি ইভেন্টে রেকর্ড গড়ার লক্ষ্য, পদকের লড়াই এবং শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা প্রতিযোগিতাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
দিনের অন্যতম আলোচিত ইভেন্ট ছিল মহিলাদের ৮০০ মিটার ফাইনাল। ইংল্যান্ডের জর্জিয়া হান্টার বেল অত্যন্ত পরিণত কৌশলে দৌড় শুরু করেন। প্রথম ল্যাপে তিনি নিজেকে শীর্ষ প্রতিযোগীদের মধ্যে রেখে শক্তি সঞ্চয় করেন। শেষ ২০০ মিটারে দুরন্ত স্প্রিন্টে বাকিদের ছাপিয়ে ফিনিশ লাইন অতিক্রম করে স্বর্ণপদক জিতে নেন। তাঁর দৌড়ের গতি ও ছন্দ আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটিক্স মহলেও প্রশংসিত হয়েছে।
মহিলাদের ২০০ মিটার স্প্রিন্টেও ছিল চোখধাঁধানো প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডসের আদেজাহ হজ দুর্দান্ত স্টার্ট নিয়ে শেষ পর্যন্ত সেই গতি বজায় রাখেন। শক্তিশালী ফিনিশিংয়ের সুবাদে তিনি স্বর্ণপদক নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে পুরুষদের ২০০ মিটারে দক্ষিণ আফ্রিকার সিনেসিফো ড্যাম্বিলে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষদের চাপে রাখেন এবং দুরন্ত টাইমিংয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বর্ণপদক এনে দেন।
শুক্রবারের প্রতিযোগিতায় শুধু স্প্রিন্ট নয়, দীর্ঘ দূরত্বের দৌড়, হার্ডলস, রিলে এবং ফিল্ড ইভেন্টেও ছিল উত্তেজনার রেশ। জ্যাভেলিন থ্রো, লং জাম্প, ট্রিপল জাম্প, শট পুট, ডিসকাস থ্রো ও হাই জাম্পে বহু অ্যাথলিট ব্যক্তিগত সেরা পারফরম্যান্স করেন। কয়েকটি ইভেন্টে শেষ প্রচেষ্টায় ফল বদলে যাওয়ায় দর্শকদের উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। অনেক ক্ষেত্রেই কয়েক সেন্টিমিটার বা সেকেন্ডের ভগ্নাংশে পদকের ভাগ্য নির্ধারিত হয়।
ভারতের অ্যাথলিটরাও বিভিন্ন বিভাগে লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দেন। যদিও সব ইভেন্টে পদক আসেনি, তবুও একাধিক ভারতীয় প্রতিযোগী নিজেদের সেরা পারফরম্যান্স করে ফাইনালে জায়গা করে নেন এবং শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে সমান তালে লড়াই করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভিজ্ঞতা আগামী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার হাজার দর্শকের সমর্থন প্রতিটি প্রতিযোগিতায় আলাদা মাত্রা যোগ করে। প্রিয় অ্যাথলিটদের উৎসাহ দিতে গ্যালারিতে বিভিন্ন দেশের পতাকা হাতে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রতিটি স্বর্ণপদক জয়ের পর জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে গেমসের আবেগঘন পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
শুক্রবারের ফলাফলের পর পদক তালিকায়ও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়া এবং কানাডার মতো দেশগুলি অ্যাথলেটিক্সে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে তুলনামূলক ছোট দেশগুলির অ্যাথলিটরাও চমক দেখিয়ে প্রমাণ করেছেন যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিভার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।
এখনও অ্যাথলেটিক্সের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইনাল বাকি রয়েছে। পুরুষ ও মহিলাদের রিলে, ম্যারাথন, পোল ভল্ট, স্টিপলচেজ এবং অন্যান্য ইভেন্টে আরও একাধিক পদক নির্ধারিত হবে। ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের আশা, আগামী দিনগুলিতে আরও স্মরণীয় পারফরম্যান্স এবং নতুন রেকর্ডের সাক্ষী থাকবে কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬।
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের কমনওয়েলথ গেমসের অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা শুধু পদকের লড়াই নয়, বরং নতুন প্রজন্মের অ্যাথলিটদের আত্মপ্রকাশ, অসাধারণ কৌশল এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণে এই আসর ইতিমধ্যেই অন্যতম সেরা অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
